আমন ধান ঘরে তোলার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত দিনাজপুরে শুরু হয়েছে বোরো আবাদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে ভোরে লাঙল আর কোদাল হাতে মাঠে নামছেন কৃষকরা। জেলার ১৩টি উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কেবলই সবুজ বীজতলা তৈরির দৃশ্য। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ধান উৎপাদন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উফশী জাত: ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭০ হেক্টর। হাইব্রিড জাত: ৫৮ হাজার হেক্টর। সম্ভাব্য চাল উৎপাদন: প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষিবিদদের মতে, জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ চারা রোপণ পুরোদমে শুরু হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলার অবস্থা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে আবাদের শীর্ষে রয়েছে সদর উপজেলা। দিনাজপুর সদরে সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ৭৮৮ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবাদ হবে পার্বতীপুর উপজেলায়, লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর। চিরিরবন্দর: ১৭ হাজার ৭০৪। বীরগঞ্জ: ১৪ হাজার ৯৫৫। ফুলবাড়ী: ১৪ হাজার ৫৮৫ । বিরল: ১৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর। ঘোড়াঘাট: ৯ হাজার ৯৩৫। বোচাগঞ্জ: ৯ হাজার ২৫৫। হাকিমপুর: ৭ হাজার ৫০০। কাহারোল: ৫ হাজার ৭৫৮। খানসামা: ৪ হাজার ৫৬৫। নবাবগঞ্জ: ১ হাজার ৮৮০। বিরামপুর: ১ হাজার ৬৪০ হেক্টর।
সার ও বীজের সংকট নিরসনে জেলায় বিএডিসি ও বিসিআইসির ৩০৪ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের নাগালে পান।
কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। চলতি বছর উপজেলায় ২৭৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতোমধ্যে ১৮০ হেক্টর জমিতে কাজ শেষ হয়েছে। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো এবং মই দিয়ে জমি সমান করার কাজে।
কৃষক আজিম উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ জানান, আগেভাগে বীজ বপন করলে চারা সতেজ হয়, আর চারা ভালো হলে ফলনও বাম্পার পাওয়া যায়। এ বছর কৃষকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৫৮, ৮৮, ৮৯, ১০০ এবং ১০২ জাত।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন এবং কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উন্নত মানের বীজ নির্বাচন এবং বৈরী আবহাওয়ায় বীজতলা রক্ষার কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে দিনাজপুরের বোরো উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
আমন ধান ঘরে তোলার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত দিনাজপুরে শুরু হয়েছে বোরো আবাদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে ভোরে লাঙল আর কোদাল হাতে মাঠে নামছেন কৃষকরা। জেলার ১৩টি উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কেবলই সবুজ বীজতলা তৈরির দৃশ্য। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ধান উৎপাদন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উফশী জাত: ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭০ হেক্টর। হাইব্রিড জাত: ৫৮ হাজার হেক্টর। সম্ভাব্য চাল উৎপাদন: প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষিবিদদের মতে, জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ চারা রোপণ পুরোদমে শুরু হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলার অবস্থা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে আবাদের শীর্ষে রয়েছে সদর উপজেলা। দিনাজপুর সদরে সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ৭৮৮ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবাদ হবে পার্বতীপুর উপজেলায়, লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর। চিরিরবন্দর: ১৭ হাজার ৭০৪। বীরগঞ্জ: ১৪ হাজার ৯৫৫। ফুলবাড়ী: ১৪ হাজার ৫৮৫ । বিরল: ১৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর। ঘোড়াঘাট: ৯ হাজার ৯৩৫। বোচাগঞ্জ: ৯ হাজার ২৫৫। হাকিমপুর: ৭ হাজার ৫০০। কাহারোল: ৫ হাজার ৭৫৮। খানসামা: ৪ হাজার ৫৬৫। নবাবগঞ্জ: ১ হাজার ৮৮০। বিরামপুর: ১ হাজার ৬৪০ হেক্টর।
সার ও বীজের সংকট নিরসনে জেলায় বিএডিসি ও বিসিআইসির ৩০৪ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের নাগালে পান।
কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। চলতি বছর উপজেলায় ২৭৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতোমধ্যে ১৮০ হেক্টর জমিতে কাজ শেষ হয়েছে। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো এবং মই দিয়ে জমি সমান করার কাজে।
কৃষক আজিম উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ জানান, আগেভাগে বীজ বপন করলে চারা সতেজ হয়, আর চারা ভালো হলে ফলনও বাম্পার পাওয়া যায়। এ বছর কৃষকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৫৮, ৮৮, ৮৯, ১০০ এবং ১০২ জাত।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন এবং কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উন্নত মানের বীজ নির্বাচন এবং বৈরী আবহাওয়ায় বীজতলা রক্ষার কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে দিনাজপুরের বোরো উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন