দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত আলফাডাঙ্গায়

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত আলফাডাঙ্গায়

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা মিনি কনফারেন্স হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. কে. এম. রায়হানুর রহমান, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু হাসনাত খান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ আবুজার জাফরি, ইমাম, উপজেলা জামে মসজিদ, আলফাডাঙ্গা। গীতা থেকে পাঠ করেন মিলন কুমার সরকার, সহকারী শিক্ষক, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া, প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গার সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান, আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাহিদুল ইসলাম, জাটি গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এম. মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের জ্ঞানী-গুণী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হত্যা করে। বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, লেখক ও সংস্কৃতিজনদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। এই পরিকল্পিত গণহত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড’ নামে পরিচিত।

স্বাধীনতার পর রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর লাশ আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এমনকি বহু লাশ পাওয়া যায়নি।

বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁদের আদর্শ ধারণ করেই একটি সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত আলফাডাঙ্গায়

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image



যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে।


শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা মিনি কনফারেন্স হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. কে. এম. রায়হানুর রহমান, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু হাসনাত খান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ আবুজার জাফরি, ইমাম, উপজেলা জামে মসজিদ, আলফাডাঙ্গা। গীতা থেকে পাঠ করেন মিলন কুমার সরকার, সহকারী শিক্ষক, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।


আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া, প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গার সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান, আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাহিদুল ইসলাম, জাটি গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এম. মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা।


বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের জ্ঞানী-গুণী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হত্যা করে। বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, লেখক ও সংস্কৃতিজনদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। এই পরিকল্পিত গণহত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড’ নামে পরিচিত।


স্বাধীনতার পর রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর লাশ আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এমনকি বহু লাশ পাওয়া যায়নি।


বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁদের আদর্শ ধারণ করেই একটি সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।





দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ