দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে জাতীয় পার্টি (জাপা) আয়োজিত কর্মী সমাবেশ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝড় সামাল দিতে হয়েছে প্রশাসনকে। ফেসবুকে ব্যানার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই পাকেরহাটজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের তীব্র ক্ষোভে।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানারটি প্রকাশের পর ঘণ্টা না পেরুতেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও তরুণদের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভের স্রোত বইতে থাকে। অনেকেই ব্যানারের উপর লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে প্রতিবাদের বার্তা জানান। এ ধরনের পোস্ট দ্রুত ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, উত্তপ্ত করে তোলে পুরো পাকেরহাট জনপদকে।
বিক্ষোভের বিষয়টি আর শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা পাকেরহাট বাজারে জড়ো হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে জাপার কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। উত্তেজনা সামাল দিতে পাকেরহাট শাপলা চত্বরে পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থানে।
বিক্ষোভের মাত্রা একটু থামতেই বিকেল ৪টার দিকে পাকেরহাট হাওলাদার চাতালে উপজেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জাপার আহ্বায়ক মো. আ. আলিম হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আহ্বায়ক আহমেদ শফী রুবেল। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খানসামা উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দিনাজপুর জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী রহিদুল ইসলাম রাফি সন্ধ্যায় একাধিক পোস্টে জাপার কর্মসূচিকে ‘অপ্রীতিকর’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন।
তার ভাষ্য—“আমরা পাকেরহাট ত্যাগ করার পরই পুলিশ প্রটোকলে জাপার কর্মী সমাবেশ হলো—এটা লজ্জাজনক।”
অন্য এক পোস্টে তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “বড় বড় দল শুধু টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজিতেই ব্যস্ত। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে আজকে তাদের মুখে কোনো কথা শুনলাম না।”
সর্বশেষ পোস্টে তিনি আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন—“যারা বেঈমান পার্টির আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেছে এবং পকেট ভরেছে, তাদের জায়গামতো ভরে দেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, "এটা রাফির ব্যক্তিগত মত।প্রশাসন কাউকে প্রটোকল দেয়নি।"
দিনব্যাপী এসব ঘটনা পাকেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব বক্তব্য, বিক্ষোভের উত্তেজনা, এবং জাপার সমাবেশকে ঘিরে পাল্টা অবস্থান—সব কিছু মিলিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে জাতীয় পার্টি (জাপা) আয়োজিত কর্মী সমাবেশ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝড় সামাল দিতে হয়েছে প্রশাসনকে। ফেসবুকে ব্যানার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই পাকেরহাটজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের তীব্র ক্ষোভে।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানারটি প্রকাশের পর ঘণ্টা না পেরুতেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও তরুণদের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভের স্রোত বইতে থাকে। অনেকেই ব্যানারের উপর লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে প্রতিবাদের বার্তা জানান। এ ধরনের পোস্ট দ্রুত ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, উত্তপ্ত করে তোলে পুরো পাকেরহাট জনপদকে।
বিক্ষোভের বিষয়টি আর শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা পাকেরহাট বাজারে জড়ো হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে জাপার কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। উত্তেজনা সামাল দিতে পাকেরহাট শাপলা চত্বরে পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থানে।
বিক্ষোভের মাত্রা একটু থামতেই বিকেল ৪টার দিকে পাকেরহাট হাওলাদার চাতালে উপজেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জাপার আহ্বায়ক মো. আ. আলিম হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আহ্বায়ক আহমেদ শফী রুবেল। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খানসামা উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দিনাজপুর জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী রহিদুল ইসলাম রাফি সন্ধ্যায় একাধিক পোস্টে জাপার কর্মসূচিকে ‘অপ্রীতিকর’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন।
তার ভাষ্য—“আমরা পাকেরহাট ত্যাগ করার পরই পুলিশ প্রটোকলে জাপার কর্মী সমাবেশ হলো—এটা লজ্জাজনক।”
অন্য এক পোস্টে তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “বড় বড় দল শুধু টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজিতেই ব্যস্ত। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে আজকে তাদের মুখে কোনো কথা শুনলাম না।”
সর্বশেষ পোস্টে তিনি আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন—“যারা বেঈমান পার্টির আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেছে এবং পকেট ভরেছে, তাদের জায়গামতো ভরে দেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, "এটা রাফির ব্যক্তিগত মত।প্রশাসন কাউকে প্রটোকল দেয়নি।"
দিনব্যাপী এসব ঘটনা পাকেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব বক্তব্য, বিক্ষোভের উত্তেজনা, এবং জাপার সমাবেশকে ঘিরে পাল্টা অবস্থান—সব কিছু মিলিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন।

আপনার মতামত লিখুন