রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান ও ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
রিটে বলা হয়েছে, মন্দির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ‘শিশির বিশ্বাস’ নামের এক ব্যক্তির এনআইডি নম্বর প্রকৃতপক্ষে মো. জাহিদুল ইসলাম নামে অন্য এক ব্যক্তির।
অন্যের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে রিটে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিষয়টি শুধু কথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’কে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে অন্য ব্যক্তির এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট রিটটি করা হয়। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর ২৩ ও ২৭ ধারা, দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৯৬ ধারা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩৭৭ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪, ১৫৬ ও ১৫৭ ধারা এবং পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ২৩ ধারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি চিঠিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট দায়েরের আগে গত ২৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।
তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান ও ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
রিটে বলা হয়েছে, মন্দির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ‘শিশির বিশ্বাস’ নামের এক ব্যক্তির এনআইডি নম্বর প্রকৃতপক্ষে মো. জাহিদুল ইসলাম নামে অন্য এক ব্যক্তির।
অন্যের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে রিটে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিষয়টি শুধু কথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’কে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে অন্য ব্যক্তির এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট রিটটি করা হয়। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর ২৩ ও ২৭ ধারা, দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৯৬ ধারা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩৭৭ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪, ১৫৬ ও ১৫৭ ধারা এবং পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ২৩ ধারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি চিঠিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট দায়েরের আগে গত ২৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।
তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আপনার মতামত লিখুন