ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। তবে শনিবার আন্দোলন যে মাত্রায় পৌঁছে এবং তা দমনে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আচরণ অভাবনীয় মনে হয়েছে। ভারতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হয় বটে, কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। কারণ, নির্বাচন কমিশন সেখানে মোটামুটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল। কিন্তু এবার অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে সে অবস্থান বদলে গেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠছে। দেশটির তরুণ সমাজ ও বিরোধী দল জোরদার আন্দোলন করছে। যদিও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা দেখব, সেখানে সরকার পরিবর্তন সবসময় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারের পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমরা নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হতে দেখেছি। নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, ভারতে ১৯৭৫ সাল থেকে বিরোধীদের আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন জরুরি অবস্থা ছিল। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রচণ্ড আকার ধারণ করেছিল। ফলে নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর ভরাডুবি হয়। ভারতের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ আন্দোলনের বড় প্রভাব আমরা নিশ্চয় দেখব। তিনি পদত্যাগ না করলে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব পড়বে। এ বছর এবং আগামী বছরে অনেকটি রাজ্যে নির্বাচন আছে। সেগুলোতে তো বটেই, ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। ভোটারদের বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনোভাবের ক্ষেত্রে একটা প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সেখানকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, এখন হয়তো তাদের মূল দাবি থাকবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ। সেখানে ১৩ কোটি মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং অন্য দুজন কমিশনার ভিন্নমত দেওয়ার পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে এটি করেছেন। এর ফলে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, ভোটের ফলাফলে একটা বড় প্রভাব পড়বে।
সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে কখনও কখনও দেখা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে দুঃখজনক। কিন্তু ভারতে সেটি অকল্পনীয় হলেও নরেন্দ্র মোদি সরকারের এ সময়ে দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে নিরপেক্ষতা ছিল; নির্বাচন কমিশনের যে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা; সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হলো। আমার মনে হয়, ভারতে এই প্রধান কমিশনারকে রেখে আগামীতে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব না। বিরোধী দলগুলোর কাছে তো বটেই, অন্যদের কাছেও সেখানকার নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি সরকার এখন এই আন্দোলন ছাড়াও অর্থনীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং তরুণদের আন্দোলন– মানে একটা চতুর্মুখী সংকটের মধ্যে আছে। এমনিতেই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্ব সংকটে; বিশেষ করে যারা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ–বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো সবারই সংকট আছে। ভারত বড় দেশ হিসেবে, বড় অর্থনীতি হিসেবে তারাও সংকটের মধ্যে আছে। যদিও তারা রাশিয়ান তেল কেনার মাধ্যমে সংকটকে কিছুটা মোকাবিলা করছে; সেটি করতে গিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর মধ্যে এই রাজনৈতিক সংকটও ঘনীভূত হয়ে বর্তমান সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোদি সরকার কী করে– সেটিই দেখার বিষয়। আমার কাছে মনে হয়, শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পরিবর্তন করা ছাড়া এ সংকট সহজে কাটবে বলে মনে হয় না। কারণ আন্দোলন এখনও কমেনি। ধরপাকড়ের পরও দিল্লিতে আন্দোলনকারীরা তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার ভারতের রাজধানী দিল্লিকে পুরোপুরি অচল করে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার নিজে। জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আন্দোলনস্থল যন্তরমন্তরকে কেন্দ্র করে ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গত রোববার মোতায়েন করা হয়েছিল ৩৫ হাজার পুলিশ, র্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। যন্তরমন্তর ঘিরে তৈরি করা হয় সাতস্তরীয় ব্যারিকেড। বসানো হয় তিন হাজার সিসি ক্যামেরা। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে দিনভর যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে কাউকে নামতে বা উঠতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সময়ে আমরা যেমনটা দেখেছিলাম; বিরোধীদের কর্মসূচির সময় বাস-ট্রাক-লঞ্চ বন্ধ করে দিয়ে সরকার নিজেও হরতাল করত। ভারতে এমনটা আগে দেখা না গেলেও এবার তা দেখা গেল। এর ফলে গ্রেপ্তারের শিকার হয় হাজার হাজার মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ককরোচ পার্টির প্রধানকেও ধরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভারতে অবশ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ধরপাকড় নতুন কোনো বিষয় না। তবে এবারের ঘটনা আলাদা। এমনকি ইন্টারনেটও বন্ধ করতে হয় সরকারকে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, নরেন্দ্র মোদির সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ভারতের বর্তমান বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিক এম হক: পরিচালক, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। তবে শনিবার আন্দোলন যে মাত্রায় পৌঁছে এবং তা দমনে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আচরণ অভাবনীয় মনে হয়েছে। ভারতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হয় বটে, কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। কারণ, নির্বাচন কমিশন সেখানে মোটামুটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল। কিন্তু এবার অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে সে অবস্থান বদলে গেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠছে। দেশটির তরুণ সমাজ ও বিরোধী দল জোরদার আন্দোলন করছে। যদিও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা দেখব, সেখানে সরকার পরিবর্তন সবসময় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারের পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমরা নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হতে দেখেছি। নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, ভারতে ১৯৭৫ সাল থেকে বিরোধীদের আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন জরুরি অবস্থা ছিল। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রচণ্ড আকার ধারণ করেছিল। ফলে নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর ভরাডুবি হয়। ভারতের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ আন্দোলনের বড় প্রভাব আমরা নিশ্চয় দেখব। তিনি পদত্যাগ না করলে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব পড়বে। এ বছর এবং আগামী বছরে অনেকটি রাজ্যে নির্বাচন আছে। সেগুলোতে তো বটেই, ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। ভোটারদের বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনোভাবের ক্ষেত্রে একটা প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সেখানকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, এখন হয়তো তাদের মূল দাবি থাকবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ। সেখানে ১৩ কোটি মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং অন্য দুজন কমিশনার ভিন্নমত দেওয়ার পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে এটি করেছেন। এর ফলে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, ভোটের ফলাফলে একটা বড় প্রভাব পড়বে।
সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে কখনও কখনও দেখা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে দুঃখজনক। কিন্তু ভারতে সেটি অকল্পনীয় হলেও নরেন্দ্র মোদি সরকারের এ সময়ে দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে নিরপেক্ষতা ছিল; নির্বাচন কমিশনের যে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা; সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হলো। আমার মনে হয়, ভারতে এই প্রধান কমিশনারকে রেখে আগামীতে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব না। বিরোধী দলগুলোর কাছে তো বটেই, অন্যদের কাছেও সেখানকার নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি সরকার এখন এই আন্দোলন ছাড়াও অর্থনীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং তরুণদের আন্দোলন– মানে একটা চতুর্মুখী সংকটের মধ্যে আছে। এমনিতেই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্ব সংকটে; বিশেষ করে যারা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ–বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো সবারই সংকট আছে। ভারত বড় দেশ হিসেবে, বড় অর্থনীতি হিসেবে তারাও সংকটের মধ্যে আছে। যদিও তারা রাশিয়ান তেল কেনার মাধ্যমে সংকটকে কিছুটা মোকাবিলা করছে; সেটি করতে গিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর মধ্যে এই রাজনৈতিক সংকটও ঘনীভূত হয়ে বর্তমান সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোদি সরকার কী করে– সেটিই দেখার বিষয়। আমার কাছে মনে হয়, শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পরিবর্তন করা ছাড়া এ সংকট সহজে কাটবে বলে মনে হয় না। কারণ আন্দোলন এখনও কমেনি। ধরপাকড়ের পরও দিল্লিতে আন্দোলনকারীরা তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার ভারতের রাজধানী দিল্লিকে পুরোপুরি অচল করে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার নিজে। জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আন্দোলনস্থল যন্তরমন্তরকে কেন্দ্র করে ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গত রোববার মোতায়েন করা হয়েছিল ৩৫ হাজার পুলিশ, র্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। যন্তরমন্তর ঘিরে তৈরি করা হয় সাতস্তরীয় ব্যারিকেড। বসানো হয় তিন হাজার সিসি ক্যামেরা। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে দিনভর যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে কাউকে নামতে বা উঠতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সময়ে আমরা যেমনটা দেখেছিলাম; বিরোধীদের কর্মসূচির সময় বাস-ট্রাক-লঞ্চ বন্ধ করে দিয়ে সরকার নিজেও হরতাল করত। ভারতে এমনটা আগে দেখা না গেলেও এবার তা দেখা গেল। এর ফলে গ্রেপ্তারের শিকার হয় হাজার হাজার মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ককরোচ পার্টির প্রধানকেও ধরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভারতে অবশ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ধরপাকড় নতুন কোনো বিষয় না। তবে এবারের ঘটনা আলাদা। এমনকি ইন্টারনেটও বন্ধ করতে হয় সরকারকে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, নরেন্দ্র মোদির সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ভারতের বর্তমান বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিক এম হক: পরিচালক, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন