হোয়াইক্যংয়ে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা ও খানাকাহর জমি দখলের অভিযোগ।
কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহ’-এর কোটি টাকার সম্পদ ও জায়গা-জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারিভাবে অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লীকে দায়িত্ব পালনে বাধা এবং এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও সম্পদ লুটপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের একমাত্র ছেলে আলহাজ্ব হাফেজ জালাল আহম্মদ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জালাল আহম্মদ জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশের বহু পুণ্যার্থী প্রতিবছর এখানকার ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ওরশে অংশ নেন। তবে ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর তাঁর বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিষ্ঠানটির জমি, বিপণিবিতান (মার্কেট) ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জালাল আহম্মদ বলেন, “বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কার্যালয় থেকে গত ২৩ জুন আমাকে তিন বছরের জন্য বৈধ ‘মোতুয়াল্লী’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কিন্তু সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করে দখলদাররা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মূল জমি ও মার্কেটের আয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত স্থানীয় মৃত হোসেন আলীর সন্তান ছৈয়দ আমিন, রশিদ আমিন, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও জুলেখা বেগমসহ চক্রটির কয়েকজন সদস্য ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাল দলিল ও ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে তারা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা দাবি করছেন। এ বিষয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরুল আমিন দাবি করেন, “এই জায়গার মূল মালিক ফরাজ খাতুন। তিনি মৃত্যুর আগে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দেন এবং জমিটি আমাদের নামে লিখে দিয়ে যান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কিংবা আদালতের রায় সঠিক নয়। বর্তমানে জায়গাটি আমাদের দখলেই রয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, “ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বা ওয়াক্ফ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত মোতাওয়াল্লিই যেকোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার আইনি এখতিয়ার রাখেন। সরকারি আইন ও নির্দেশ অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা বা অবৈধ দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম ও সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সংঘাত ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটিত হয়।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোয়াইক্যংয়ে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা ও খানাকাহর জমি দখলের অভিযোগ।
কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহ’-এর কোটি টাকার সম্পদ ও জায়গা-জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারিভাবে অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লীকে দায়িত্ব পালনে বাধা এবং এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও সম্পদ লুটপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের একমাত্র ছেলে আলহাজ্ব হাফেজ জালাল আহম্মদ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জালাল আহম্মদ জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশের বহু পুণ্যার্থী প্রতিবছর এখানকার ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ওরশে অংশ নেন। তবে ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর তাঁর বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিষ্ঠানটির জমি, বিপণিবিতান (মার্কেট) ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জালাল আহম্মদ বলেন, “বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কার্যালয় থেকে গত ২৩ জুন আমাকে তিন বছরের জন্য বৈধ ‘মোতুয়াল্লী’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কিন্তু সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করে দখলদাররা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মূল জমি ও মার্কেটের আয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত স্থানীয় মৃত হোসেন আলীর সন্তান ছৈয়দ আমিন, রশিদ আমিন, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও জুলেখা বেগমসহ চক্রটির কয়েকজন সদস্য ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাল দলিল ও ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে তারা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা দাবি করছেন। এ বিষয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরুল আমিন দাবি করেন, “এই জায়গার মূল মালিক ফরাজ খাতুন। তিনি মৃত্যুর আগে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দেন এবং জমিটি আমাদের নামে লিখে দিয়ে যান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কিংবা আদালতের রায় সঠিক নয়। বর্তমানে জায়গাটি আমাদের দখলেই রয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, “ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বা ওয়াক্ফ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত মোতাওয়াল্লিই যেকোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার আইনি এখতিয়ার রাখেন। সরকারি আইন ও নির্দেশ অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা বা অবৈধ দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম ও সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সংঘাত ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন