প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
যাকাত সংগ্রহে জাতীয় স্বীকৃতি: মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ||
২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ যাকাত সংগ্রহকারী জেলা প্রশাসক হিসেবে বর্তমান ঢাকা জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে প্রথম স্থান প্রদানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যাকাত তহবিল বিভাগের পক্ষ থেকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হলেও, পুরস্কার প্রদানের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অধিকতর স্বচ্ছতার দাবি উঠেছে।সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু যাকাত সংগ্রহের পরিমাণ নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহি, সুশাসন এবং দায়িত্ব পালনকালীন সামগ্রিক কর্মদক্ষতাও মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, মূল্যায়নের মানদণ্ড ও যাচাই প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে এ ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।এদিকে, ফরিদা খানমের সাবেক কর্মস্থলের কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের মতে, যেসব বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল, সেগুলোর যথাযথ পর্যালোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জনসম্মুখে আসা প্রয়োজন। তবে এসব দাবির সত্যতা এই প্রতিবেদক স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হলে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করাও সমীচীন নয়।সুশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতি, তথ্য যাচাই এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও উন্মুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশ্নের অবকাশ কমে আসবে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ