প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভেড়ামারায় তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগ, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিনিধি: ইখলাস হোসেন ||
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটকে ঘিরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।জানা গেছে, ভেড়ামারার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে না। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। পাম্পগুলোতে তেল শূন্য দেখানো হলেও অভিযোগ রয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় তেল সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার তেলের দাম ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে তেল না থাকলেও বিভিন্ন বাজারে গোপনে তেল বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া রাজনৈতিক ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে ড্রামে তেল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেড়ামারা শহর দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। মাত্র ২০০ টাকার তেল নিতে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবুও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলো ২-৩ দিন বন্ধ রেখে হঠাৎ একদিন তেল বিক্রি করছে। একটি পাম্প খোলা থাকলে অন্যগুলো বন্ধ থাকছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এম এ খালেক, মতিয়া, মিজান ও দফাদারসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে কালোবাজারিদের কাছে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।কাজী কোম্পানির কর্মী মাসুদ জানান, “তেলের অভাবে নিয়মিত কাজ করতে পারছি না। দীর্ঘ লাইনে থেকেও তেল না পেয়ে অনেক সময় গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে চাকরিতে অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে এবং বেতন কাটা যাচ্ছে।”ব্রাইট ফিউচার স্কুলের শিক্ষক জহুরুল বলেন, “জ্বালানি সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা সেবা ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি সেবার জন্য আলাদা লাইনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।”পল্লী চিকিৎসক রানা জানান, “দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। গাড়িতে তেল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিতদের লাইনে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন মালিকরা দাবি করেন, সরকারি পর্যায়ে তেল সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে।ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কালোবাজারি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কঠোর নজরদারি রয়েছে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ