প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াকফ কৃত ফসলি সম্পত্তির জমির মাটি কেটে পুকুর খনন,
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ||
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর রাস্তা সংলগ্ন রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, শ্রীপুর ইউনিয়ন, খোকন, মালেক, জয়নাল, খোরশেদ সহ একটি মাটি কাটার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তারা, তাদের নেতৃত্বে রাতের বেলায় ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে বাগৈগ্রাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা ওয়াকফ কৃত ৩০ শতক জমির মাটি কেটে একপর্যায়ে পুকুর খনন করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি মসজিদ কমিটির অজান্তে বিক্রি করে। এমন একটি অভিযোগ করেন মোয়াল্লেম আবদুল কাদের, স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। অনেক জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবং কি ইতিমধ্যে জমিটি পুকুর খনন করায় বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে যাচ্ছে। শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈগ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান বাগৈগ্রাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার ওয়াকফ কৃত ৩০ শতক সম্পত্তি রয়েছে। বিশেষ সুত্রে জানাযায় শ্রীপুর ইউনিয়ন বড় ভাংনা রাস্তা সংলগ্ন বাগৈগ্রাম মৃত আতর আলী জীবিত থাকা অবস্থায় অত্র গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসা ৩০শতক সম্পত্তি ওয়াকফ করে দিয়ে থাকে, কিন্তু সে ওয়াকফ কৃত ৩০ শতক সম্পত্তি কাউকে না জানিয়ে রাতের আদারে পুরো জমির মাটি কেটে একটি পুকুর হিসাবের রুপান্তরিত করে তাঁরা, এই বিষয় বাগৈগ্রাম জামে মসজিদ মোয়াল্লেম অভিযোগ কারী আবদুল কাদের উল্লেখ করে বলেন, আসলে আমি দীর্ঘদিন থেকে এই মসজিদের সকল দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, এই মসজিদ এবং মাদ্রাসার ওয়াকফ কৃত যে ৩০ শতক জমি রয়েছে, তা আমার মাধ্যমে সব সময় যাদের প্রয়োজন তাঁরা মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বন্ধক হিসেবে নিয়ে যেতো, কিন্তু বর্তমানে আমার অজান্তে একটি দল রাতের আঁধারে পুরো সম্পত্তির মাটি কেটে নিয়ে যায়, এই বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে, আমরা চাই অতি শিগ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন । এই বিষয় জমি দান কৃত মৃত আতর আলীর ছেলে মোঃ মফিজুর রহমানের কাছে মাটি কাঁটার বিষয় জানতে চাইলে মফিজুর রহমান উল্লেখ করে বলেন আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাদের গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ৩০ শতক জমি ওয়াকফ করে দিয়ে থাকে, তার মধ্যে আমারও কিছু সম্পত্তি রয়েছে, কিন্তু আমরা শহরে থাকি, বাড়িতে আসার পর শুনতে পাই কে বা কাঁহারা মসজিদের ওয়াকফ কৃত সম্পত্তির মাটি বিক্রি করে দিয়েছে, যা আমরা কেউ এই মাটি কাঁটার বিষয় অবগত নয়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবিলম্বে নিয়মিত অভিযান জোরদার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।অভিযুক্তদের সাথে এই বিষয় জানতে চাইলে তাঁরা উল্লেখ করে বলেন আসলে এই জমির মাটি বিক্রি করেছে ঠিক, কিন্তু কেউ নিজের জন্য বিক্রি করে নি, এই জমির মধ্যে ভালো ফসল উৎপাদন হয় না , যার কারণে মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবনের কাজ নির্মাণে জন্যই মাটি বিক্রি করা হয়, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও কমিটির সকল সদস্য বিন্দুর অনুমতিক্রমে মাটি বিক্রি করে মসজিদ ও মাদ্রাসার চলমান কাজগুলো করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মসজিদ ও মাদ্রাসার চলমান কাজ বিঘ্ন ঘটানোর লক্ষ্যে একটি চক্র মহল কাজ করে যাচ্ছে। তবে যেহেতু আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, আমরাও চাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ