প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
দিনাজপুরের খানসামায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
মোঃ রাশেদুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ করেই কৃত্রিম জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, অকটেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। তেলের অভাবে অনেক যানবাহন রাস্তায় নামতে পারছে না, ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায়ও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খানসামা উপজেলায় থাকা চারটি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ নেই। হঠাৎ এই সংকট তৈরি হওয়ায় তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল পাওয়ার আশায় অনেক চালক পাম্পে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, তাদের কাছে কোনো জ্বালানি তেল নেই। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মারুফ হাসান মুন্না জানান, কয়েকদিন ধরে পাম্পে তেলের সংকট চলছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় দূরের কোনো উপজেলায় গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।ঋষিকেশ নামে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক বলেন, তেলের দাম বাড়বে সেই আশায় বন্ধ করে দিয়েছে। আইন অন্ধ হয়ে গেছে, ওদের ডিপোতে দেখেন তেল আছে।স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুস সালাম জানান, এরা দাম বাড়ানোর আশায় আছে। জাহিদ হাসান নামে এক যুবক বলেন, আছে ঠিকই, কিন্তু সুযোগের সৎ ব্যবহার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে এমন তেলের সংকট আগে কখনো দেখা যায়নি। তারা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ফিলিং স্টেশনে বিলবোর্ডে লেখা, তেল শেষ, পেট্রোল নেই, অকটেন নেই। তারা জানান, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা তেল দিতে পারছেন না। সরবরাহ এলেই আবার স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি শুরু করা হবে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জ্বালানি তেলের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে খানসামা উপজেলায় জ্বালানি তেলের এই সংকট দূর হয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোক্তাদের মধ্যে কারা কতটুকু জ্বালানি ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাইক সর্বোচ্চ ২ লিটার ও প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল/অকটেন কিনতে পারবে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ