প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঘিরে গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগ
ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিনিধি ইখলাস হোসেন ||
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে ফিলিং বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে ব্যাপক গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বালু ব্যবসায়ীদের একাধিক অফিস ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও লভ্যাংশের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সহিংসতা।রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে বাহিরচর ইউনিয়নের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, এক পক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে—এমন খবর পেয়ে অপর পক্ষ গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ২০-২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। দুর্বৃত্তরা দুটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, একটি ড্রাম ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।বালু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তার অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং চাচাতো ভাই ফারুকের সুজুকি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপর ব্যবসায়ী লিটন প্রামাণিক বলেন, তার অফিসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “যে দল ক্ষমতায় আসে, সে দলই অবৈধ বালু উত্তোলন করে—এটাই বাস্তবতা।”পুড়ে যাওয়া ড্রাম ট্রাকের মালিক পাকশীর বাসিন্দা মাজিদুল হক জানান, এতে তার প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির দুটি পক্ষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নাম ভাঙিয়ে একটি গ্রুপ অবৈধ বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। লভ্যাংশ ও ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা থাকলেও নদী-সংলগ্ন অন্যান্য প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে বিরোধ থেকেই এ সহিংসতা। অভিযানের সময় উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে অদৃশ্য কারণে আবার শুরু হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।ঘটনার আগের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ড. গাজী আশিক বাহার অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে একটি ড্রাম ট্রাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও একজনকে কারাদণ্ড দেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় উত্তোলন শুরু হয় বলে জানা গেছে।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ড. গাজী আশিক বাহার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে গতকালও জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যেখানে উত্তোলন হচ্ছে, তার ৪০০ মিটারের মধ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবস্থিত। এতে ব্যাপক নদীভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম ও সদস্য সচিব শাহজাহান আলী জানান, বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে অবৈধ উত্তোলন হচ্ছে—এটা সত্য এবং এর প্রতিকার জরুরি।কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল গফুর বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জামায়াতের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের চারটি বালুর ঘাট বন্ধ রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ