প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
দেশে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে খুবিতে সাধারণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো:আমানউল্লাহ বিশ্বাস ||
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া সহিংস কর্মকাণ্ড এবং নারী ও শিশুদের ওপর বর্বরোচিত ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।আজ(শনিবার,২৮ফেব্রুয়ারি ) বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিটি একটি গণদাবিতে পরিণত হয়।আজ(শনিবার) বিকালে পাবনায় ঈশ্বরদীতে বাড়ি থেকে দাদিকে হত্যা করার পর নাতনিকে অপহরণ করা হয়। পরে নাতনিকেও হত্যা করা হয়, তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় পাশে সরিষা ক্ষেত থেকে। জড়িতদের ধরার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। অতি সাম্প্রতি নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তার পরিবার বিচার দাবি করেছিল। এর জের ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বখাটেরা এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।২৪ ফেব্রুয়ারি ভোলার তজুমদ্দিনে এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।দেশে চলমান এসব সহিংস ও নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ (শনিবার) বিকাল ৫ টায় আদম্য বাংলা থেকে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ বের করে।এ সমাবেশের দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সরকারের ভঙ্গুর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের দাবি ছিল ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা। বিক্ষোভ সমাবেশে শুরুতে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন। শুরুতে বক্তব্য রাখেন ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানভীর কবির,"আমরা দেখতে পাচ্ছি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস কর্মকাণ্ডে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এই ব্যর্থতার কারণে ধর্ষণের মত খারাপ কাজ প্রতিদিন ঘটছে।"২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ বিল্লাহ বলেন,"গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪/৫ জন ধর্ষণ হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। কাউকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে, কাউকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। দেশে ধর্ষণের মামলা অহরহ ঘটলেও একটা ধর্ষণের মামলায়ও সুস্থভাবে বিচার হয়নি। ধর্ষকরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচারের রায় তাদের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে।"২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইদ ইসলাম বলেন, "বিগত ৪/৫ দিনে আমরা লক্ষ্য করেছি দেশের বিভিন্ন স্থানে গণধর্ষণের মহড়া চলছে। এই বাংলার মাটিতে কোন ধর্ষকের ঠাই হবে না। এদেশের ধর্ষকের কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে না।প্রশাসনকে জানাতে চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার না হলে জুলাইয়ের মত আবারও রাজপথে নামবো।"২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী নওশীন বলেন,"নিরাপত্তা সংকটের কারণে দৈনন্দিন কাছে আমরা স্বাধীনভাবে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছি না। রাস্তা যদি একজন শিশুকে নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে সে কোন জায়গা নিয়ে কথা বলবে সে প্রশ্ন আমি তুলে রেখে যেতে চাই। জনগণের নবনির্বাচিত সরকার ধর্ষণ নিয়েছে গড়িমসি করছে সেটা আসলে আমাদের কারোরই কাম্য নয়।"সমাবেশের সমাপনী বক্তব্য রাখছেন ভৈরবী সংগঠনের সভাপতি রাদ।তিনি বলেন, "আমাদের মা-বোনদের জন্য ধর্ষণ করছে তাদেরকে বাংলার মাটিতে ফাঁসি দিতে হবে। পূর্ববর্তী দর্শকদের বিচার না হয় তারা এ ধরনের কাজ করতে উৎসাহিত হচ্ছে। আমি সরকারকে বলে দিতে চাই তারা যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করতে পারে। তাহলে এ আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতার হবে।আজ আমরা আমাদের দুইটা দাবি তুলে ধরছি। ১.একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। ২.দশকের বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।"
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ