প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানকে পুঁজি করে বাজারে নৈরাজ্য: কাঁচামালের লাগামহীন দামে ক্ষুব্ধ ঠাকুরগাঁওবাসী
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ||
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে কাঁচামালের বাজারে কার্যত নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। বাজারে যেন কোনো কার্যকর তদারকি নেই—এমন অভিযোগই বেশি শোনা যাচ্ছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, লেবু হালি প্রতি ১২০ টাকা, শশা কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচামরিচ কেজি প্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই নতুন দামের তালিকা তৈরি হচ্ছে, আর সেই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।যদিও আলুর বাজার তুলনামূলকভাবে কম—কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা—তবুও এতে স্বস্তি নেই। কারণ একটি সংসার শুধু আলু দিয়ে চলে না। লেবু, মরিচ, শশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অগ্নিমূল্য পুরো বাজার ব্যবস্থাকেই অস্থিতিশীল করে তুলেছে। কম দামের আলু যেন উচ্চমূল্যের বাজারে একপ্রকার ব্যঙ্গাত্মক ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইফতার ও সেহরির চাহিদাকে হাতিয়ার বানিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে—এমন ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে জোরালো। বাজারে প্রশাসনের দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।একজন ক্ষুব্ধ ক্রেতা বলেন, “রমজান আমাদের জন্য সংযমের মাস, কিন্তু বাজারে চলছে লুটপাট। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ রোজা রেখে বাজারের চিন্তায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে।”সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা কোথায়? বাজারে কঠোর মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে রমজান জুড়ে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনকে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো রমজানের পবিত্র আবহ ছাপিয়ে বাজারের অগ্নিমূল্যই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ