প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মডেল উপজেলা দুমকি, অথচ নেই আগুন নেভানোর ন্যূনতম ব্যবস্থা: ৫৪ বছরের বঞ্চনা
ওবায়দুর রহমান অভি, ||
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও পটুয়াখালীর দুমকিতে স্থাপিত হয়নি বহুল কাঙ্ক্ষিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। মাত্র ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছোট উপজেলা হলেও এখানে রয়েছে বহু সরকারি, বেসরকারি স্হাপনা। দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর খ্যাত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পায়ারা সেতু, লেবুখালী সেনানিবাস, উপজেলা পরিষদ ভবন, সরকারি জনতা কলেজ, দুমকি হাসপাতাল, লুথ্যারান হাসপাতাল, ডাকঘর, টিএন্ডটি অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ও ব্যাক্তি মালিকানার বহুতল বিশিষ্ট ভবন। প্রতিবছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অহরহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে।এতে জনসাধারণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটলে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী সদর ও বাকেরগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে আসার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এলাকায় কোন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাজারগুলোর শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। এতে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনেক ব্যবসায়ীসহ বাসাবাড়ির মালিক।গত কয়েক বছরে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজারের ৭ টি দোকান, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবয়ড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে ৪ টি বসত ঘর, রাজাখালী গ্রামের বাচ্চু মেম্বারের বসত ঘর, দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের শামীম মৃধার গরুর খামারসহ ৮টি গরু, উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের জাকির হোসেন হাওলাদারের হাওলাদার ফুড বেকারি, দুমকি থানা ব্রীজের পশ্চিম পাড়ের খায়রুল ইসলামের জেএস মিনি ফাস্টফুড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রাহেলা বেগমের ঘর গত ৪ঠা নভেম্বর দুমকি নতুন বাজারের খোরশেদ কাক্কুর ভাতের হোটেলসহ অসংখ্য বসত ঘর এবং ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সর্বশেষ গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজারের পুরাতন মাছ বাজারের মানসিক ভারসাম্যহীন বিধবা শেফালী বেগমের বসত ঘর আগুনে পুড়ে সম্পুর্ন ভাবে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এতে বিধবা মহিলার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এরকম আরো উপজেলার মানুষের কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবার গুলো। এছাড়াও বিভিন্ন সময় গ্রামীণ জনপদের কৃষকের খড়কুটোর স্তূপে আগুন লেগে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নবনির্বাচিত বর্তমান সরকারের কাছে দুমকির মানুষের প্রাণের দাবি একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা। মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন যাবৎ দুমকি উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এখানে দক্ষিণ বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বড় বড় স্থাপনা, ঘরবাড়ি রয়েছে। সরকারের কাছে দুমকিতে জরুরি ভাবে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবী জানাই। দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানা জানান, বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী রোববার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মিটিং আছে। তখন বিষয়টি উত্থাপন করব।এব্যাপারে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইউনিট লিডার সুবোধ চন্দ্র মন্ডল বলেন, দুমকিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে আমরা কয়েকটি জায়গা দেখেছি কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সামনে আগানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টায় আছি যাতে দুমকিতে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা যায়
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ