প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় ৪০ জন আহত, ভেড়ামারায় জলাতঙ্ক শঙ্কা
ইখলাস হোসেন ||
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার মধ্যে পাগলা কুকুরের কামড়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৮ জন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভ্যাকসিন না থাকায় তীব্র সংকটে পড়েছেন জলাতঙ্কের আশঙ্কায় থাকা ভুক্তভোগীরা। ফার্মেসি গুলোতেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ২/৩ গুন বেশি দাম ধরা হচ্ছে। আতঙ্কে অনেক অভিভাবক তাদের স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না। গত রবিবার (১৫ই ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ের এই তথ্য পাওয়া যায়। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকে কয়েকটি পাগলা কুকুর ভেড়ামারা পৌরসভার মধ্যে বিভিন্ন জনকে কামড় দিতে শুরু করে।রবিবার সকালে কুকুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে ৫জনকে কামড়িয়ে আহত করে। তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে কুকুরের কামড়ে ২৮ জন আহত রোগী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। অনেকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে, আহতের ৬জন পৌরসভার। ২২ জন আহত রোগী পৌরসভার বাহিরে হলেও তারা পৌরসভার কুকুর থেকেই আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে শিশু ৩ জন,কিশোর ৭ জন, বৃদ্ধ ২জন বাদবাকি মধ্যবয়সী।আহতদের মধ্যে ৬জন মহিলা রোগীও রয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে জলাতঙ্কার আশঙ্কায় থাকা ভুক্তভোগীরা। বাহিরের ফার্মেসি গুলোতেও তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। ভুক্তভোগীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ২/৩ গুন দাম। শহরের স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা। অনেকেই বাচ্চাদের স্কুল প্রাইভেট বন্ধ করে দিয়েছেন। কুকুরের কামড়ে আহত পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া রুহুল আমিনের মা সালমা বেগম জানান, আমার বাচ্চাকে কুকুরে কামড় মেরেছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন ভ্যাকসিন পায়নি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে দ্বিগুণ দামে ভ্যাকসিন কিনেছি। আরেকজন অভিভাবক সেলিনা খাতুন বলেন, আজ বাচ্চাকে কুকুরের ভয়ে প্রাইভেট ও স্কুলে নিয়ে যায়নি। প্রশাসনের উচিত পৌরসভার বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরগুলো নিধন করা। কুকুরগুলো সাধারণত জনবহুল এলাকাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে খুবই আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার একরামুল হক জানান, পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ২৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।তিনি জানান, বেশ কয়েকজন ছোট বাচ্চাকে খুব মারাত্মক ভাবে জখম করেছে। অনেকের অবস্থা গুরুতর। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই। বিষয়টি আমরা উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ