প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লালমনিরহাটে প্রবাসী আরমান উদ্দিন টুলুর বিরুদ্ধে 'সাজানো' মামলা: নেপথ্যে মালিকানা দ্বন্দ্ব
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: ফারুক সূর্য ||
লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ী এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সুইডেন প্রবাসী আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নর্থবেঙ্গল গেস্ট হাউসে চুরির অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিবাদী পক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি সাধারণ বিষয়কে ‘ডাকাতি’ ও ‘লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট’ হিসেবে সাজিয়ে এই হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মুকুট চন্দ্র মোহন্ত শুভ বাদী হয়ে বিডিআর গেট সংলগ্ন 'নর্থবেঙ্গল গেস্ট হাউস'-এ চুরির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। তবে এজাহারে বর্ণিত তথ্যের সাথে বাস্তবতার ব্যাপক গরমিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিবাদী পক্ষ। তাদের উত্থাপিত প্রধান প্রশ্নগুলো হলো: ১ ফেব্রুয়ারির বলা হলেও দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর (১৪ ফেব্রুয়ারি) কেন মামলা করা হলো, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।অতিরঞ্জিত ক্ষয়ক্ষতির দাবি: তুলে একটি গেস্ট হাউস থেকে সাধারণ আসবাবপত্র বাবদ ২০-২৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের দাবিকে "উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার" বলে আখ্যা দিয়েছেন টুলুর ঘনিষ্ঠজনরা।আইনি ধারার অপব্যবহার: আইনজীবীদের মতে, দণ্ডবিধির ৩৯৫ (ডাকাতি) বা ৩৮০ ধারার অভিযোগ আনা হলেও এর কোনো প্রাথমিক বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ নেই। মূলত সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই পরিকল্পনা।ভুক্তভোগী ও সুইডেন প্রবাসী আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু জানান, পাঁচতলা বিশিষ্ট নর্থবেঙ্গল গেস্ট হাউসটি হচ্ছে আমার বাবা মরহুম আব্বাস উদ্দিনের এরই ওয়ারিশ সূত্রে ২১ শতাংশের মালিক তিনি এবং তার দুই বোন। তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে গেস্ট হাউসের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মুকুট চন্দ্র মোহন্ত আমাদের গেস্ট হাউসেরই ম্যানেজার। সে আমার বড় ভাবির নির্দেশে এটি নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা আমাদের ন্যায্য অংশ দাবি করায় বড় ভাবি ম্যানেজারকে দিয়ে এই সাজানো মামলা করিয়েছেন। অর্থ খরচ করে আমাকে ও আমার পরিবারকে ফাঁসানো হচ্ছে।" আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু।এলাকাবাসীর মতে, টুলু একজন পরিচিত মুখ এবং প্রবাসী ব্যক্তিত্ব। তার পক্ষে গভীর রাতে গেস্ট হাউসে ঢুকে চুরির মতো কাজ করা অসম্ভব। তারা মনে করছেন, প্রকৃত সত্য আড়াল করতে একটি প্রভাবশালী পক্ষ নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী পক্ষ।তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব সজীব মামলাটি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বিবাদী পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যেন কেবল এজাহারের ওপর ভিত্তি না করে সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই মামলার ভিত্তিহীনতা প্রমাণিত হবে বলে তারা দৃঢ় বিশ্বাস করেন।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ