প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনায় ৬ আসনে ৩৮ প্রার্থী, জামানত রক্ষা করলেন মাত্র ১২ জন
শেখ শাহরিয়ার, খুলনা জেলা প্রতিনিধি ||
আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে খুলনার ছয়টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাত্র ১২ জন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। বাকি ২৬ জন প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারায় জামানত হারিয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয় জামানত রক্ষার জন্য। এবার খুলনার প্রতিটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে।খুলনা-১১২০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৯টি। এখানে এক অষ্টমাংশ হিসেবে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৩৬২ ভোট।বিএনপির আমির এজাজ খান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। অন্যান্য ১০ প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারান।খুলনা-২১৫৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ জন। প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪। জামানত রক্ষার সীমা ছিল প্রায় ২৩ হাজার ৬৬০ ভোট।জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পান ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারান।খুলনা-৩১১৬টি কেন্দ্রে ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫টি, যা প্রায় ৫৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৩১ ভোট।বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল পান ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। জামায়াতের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পান ৬৬ হাজার ১০ ভোট। এ আসনে ৮ প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারান।খুলনা-৪১৪৫টি কেন্দ্রে ভোটার ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৬টি। জামানতের সীমা ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৮৫২ ভোট।বিএনপির এস কে আজিজুল বারী হেলাল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী পান ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারান।খুলনা-৫১৫১টি কেন্দ্রে ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২০৯টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৭ হাজার ২৭৬ ভোট।বিএনপির আলী আজগর লবী পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। জাতীয় পার্টি ও সিপিবির প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারান।খুলনা-৬১৫৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ২৪ ভোট।জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ পান ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট। বিএনপির এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পী পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থী জামানত হারান।রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, ছয়টি আসনেই ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বড় ধরনের সহিংসতা বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।সার্বিক ফলাফলে দেখা যায়, খুলনায় বিএনপি চারটি এবং জামায়াতে ইসলামী দুটি আসনে জয় পেয়েছে। তবে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য এবারের নির্বাচন ছিল কঠিন, কারণ তারা ন্যূনতম ভোটের সীমাও অতিক্রম করতে পারেননি।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ