প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন সরদারের হুশিয়ারি
জবি প্রতিনিধি: ||
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি ছাত্রসংগঠনের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গতকাল রাতের অভিযানে এসব আলামত উদ্ধার করে।স্থানীয় সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে বাঁশের লাঠি, ধারালো অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম রয়েছে, যা সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন অস্ত্র মজুদের ঘটনা নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন এলেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা দেখা গেছে। তাদের মতে, একই কৌশলে আবারও একটি গোষ্ঠী ভোটকেন্দ্র দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।পুরান ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে অস্ত্র উদ্ধারের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।”জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন,"বিগত প্রায় ১৬ বছর নির্বাচনের আগে এরকম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ।ভোট কেন্দ্র দখল,দিনের ভোট রাতেই দিয়ে দেওয়া,মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হতো না।ঠিক একই কায়দায় সারাদেশে জামায়াত, শিবির, ব্যালট জালিয়াতি, সিল জালিয়াতি, এবং অস্ত্রের মজুদ করে ভোট কেন্দ্র দখলের নীল নকশা করছে।(এরা বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের মধ্যে গুপ্ত থেকে যে অভ্যাস অর্জন করেছে তা ভুলতে পারে নাই) যা ইতিমধ্যেই দেশবাসীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে।একটা কথা কানখুলে শুনে রাখুন বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বা এর আশেপাশে যদি কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ভোট কেন্দ্র দখল করতে আসেন অবশ্যই বাবা,মা,আপনাদের স্ত্রী পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসবেন,অন্যথায় বিদায় শব্দটি নেওয়ার সময় পাবেন না,এদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন, এরা নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নিতে জানে।"এ বিষয়ে অভিযুক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মামলা ও গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান জরুরি। তারা মনে করেন, কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।এদিকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাস ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ