প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস নুরুল-জাকিরীন-সামছুউদ্দীন কে হাসবেন শেষ হাসি?
শফিকুল বারি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ||
লআসন্ন (১২ফেব্রুয়ারী২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। চলছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার কাজ চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকেরা ভোট প্রার্থনা করছেন এবং যার যার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন তাদের অনুসারীরা,সবমিলিয়ে সুনামগঞ্জ ৪ আসনে এক টানটান উত্তজনাপূর্ণ লড়াইয়ের সমীকরণ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ত্রিমুখী লড়াইয়ে,যেমন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল ধানের শীষ প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন মোটরসাইকেল প্রতীক,এবং জামায়াত প্রার্থী এডভোককেট সামছুউদ্দীন দাড়ি পাল্লার মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক মাঠে রয়েছেন।বিএনপির দুর্গ উদ্ধারে নুরুল ইসলাম নুরুলজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের কান্ডারি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। দলীয় কর্মীদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।নুরুল ইসলাম নুরুল এর কর্মী সমর্থকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে দলের ভোট ব্যাংক অক্ষুণ্ণ থাকলে তার জয় নিশ্চিত।তিনি চষে বেড়াচ্ছেন সদর ও বিশ্বম্ভরপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে।তবে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন জয়নুল জাকেরীনবিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।চারবারের সাবেক এই সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক ও ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হওয়া এই আসনে জয়ের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে।অনেক সাধারণ ভোটার এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার দিকে ঝুঁকে পড়ায় নুরুল ইসলামের জন্য তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে ভোট ভাগাভাগির অংশবিশেষেফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট সামসুউদ্দিন।এদিকে একক ধর্ম ভিত্তিক দল চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন আদর্শিক ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ ধার্মিক মানুষের ভোট যদি তারা টানতে পারেন, তবে ফলাফলে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতেন পারেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশীও।তবে থেমে নেই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নাজমুল হুদা হিমেল তিনিও তার দলের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী নিয়ে মাঠে সক্রিয় যাচ্ছেন ভোটারদের ধারে ধারে।ইসলামী ভোটগুলো যদি এই দুই দলের মধ্যে ভাগ হয়, তবে তার সুবিধা মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুলের বা জাকিরীনের দিকে যেতে পারে।মাঠের চিত্র ও ভোটারদের ভাবনাসদর উপজেলার সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে বিশ্বম্ভরপুরের হাওরাঞ্চল পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা এবার প্রার্থী নির্বাচনে বেশ সজাগ। বিশেষ করে তরুণ ও প্রবীণ ভোটাররা দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের প্রতি আগ্রহী হলেওদলীয় অনুসারীরা ধানের শীষের পক্ষেই অনড়।স্থানীয় এক ভোটারের মতে, "নুরুল ইসলাম নুরুল দলের পরীক্ষিত নেতা, আর দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন আমাদের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি এবং এদিকে জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট সামসুউদ্দিনের ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে দাড়ি পাল্লার দিকে ঝুকে পড়ছেন বেশ ভোটাররা। সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে,ধানের শীষ,মোটরসাইকেল,দাড়ি পাল্লা সহ এই তিনজনের লড়াইটা হবে সমানে সমান।"সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে এখন ত্রিমুখী লড়াইয়ের ঘ্রাণ, রাজনীতির সমীকরণে নুরুল জাকিরীন ও সামসুদ্দিন এর মধ্যেই থাকবে মূল লড়াই।ধানের শীষের ঐতিহ্য বনাম মোটরসাইকেল প্রতীক এর ব্যাক্তি ইমেজ ও দাড়ি পাল্লার প্রার্থীর এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় জয়ের মালা উঠবে, তা দেখতে এখন ভোটারদের চোখ হাওরবেষ্টিত এই জনপদে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ