প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের -৪ আসনে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ডেক্স নিউজ ||
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘হাতপাখা’ প্রতীক সাধারণ মানুষের বিশেষ পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দলটির ত...ণমূলের সক্রিয়তা ও প্রার্থীদের ক্লিন ইমেজ অন্য বড় দলগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মনোনীত প্রার্থীরা হলেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মাওলানা সরওয়ার আলম কুতুবী, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে তরুণ উদ্যোক্তা অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে মুহাদ্দিস মাওঃ আমিরুল ইসলাম মীর এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে প্রবাসী হাফেজ নুরুল হক।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস মাওঃ আমীরুল ইসলাম মীর বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে একমাত্র দলীয় ব্যানার নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে লড়াই করেছে। সাধারণ মানুষ দেখেছে, ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত একটি দল কীভাবে জালেমের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়াতে পারে। ইনসাফ কায়েম এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে মানুষ এবার ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা চারটি আসনেই বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছি।”জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিন সওদাগর বলেন, কক্সবাজারের প্রতিটি আসনে হাতপাথার প্রার্থীরা তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। “নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের সাংগঠনিক প্র¯‘তি সম্পন্ন। কক্সবাজারের প্রতিটি ওয়ার্ডে ও ইউনিয়নে আমাদের কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত দিনের চেয়ে এবার ভোটারদের মধ্যে হাতপাখার জোয়ার অনেক বেশি। মানুষ এখন আর দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের দেখতে চায় না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি।”নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও জেলা সেক্রেটারী এআরএম ফরিদুল আলম বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে ইসলামী আন্দোলন এখন এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যার প্রভাব কক্সবাজারেও পড়বে। ইনশাআল্লাহ জেলার ৪টি আসনেই আমাদের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকবে আশা করি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাদের নৈতিকতা ও সাহসিকতার কারণে হাতপাখার প্রতি ঝুঁকেছেন।দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ইসলামি মূল্যবোধের কারণে তরুণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার-২ ও কক্সবাজার-৩ আসনে দলটির প্রার্থীরা বড় দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে দাবী করেন দলীয় কর্মীরা । প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই গ্রাম-গঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং ভোটারদের অভাবনীয় সাড়া পা”েছন বলেও দাবি করছেন বলে ও দাবী তাদের।এদিকে মাওলানা সরওয়ার আলম (কক্সবাজার-১) বলেন : “চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ দীর্ঘদিনের শোষণ থেকে মুক্তি চায়। মাঠের জনস্রোত বলে দিচ্ছে এবার পরিবর্তন আসবেই।”অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক (কক্সবাজার-২): বলেন “দ্বীপ উপজেলার অবহেলিত মানুষের পাশে সবসময় ছিলাম। সাধারণ মানুষ এবার আমানত রক্ষা করবে বলে আমার বিশ্বাস।”মুহাদ্দিস মাওঃ আমীরুল ইসলাম মীর (কক্সবাজার-৩) বলেন: “কক্সবাজার সদরে আমরা আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল শহর গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দি”িছ, তাতে সর্বস্তরের মানুষ আমাদের সমর্থন দিছেন।”প্রবাসী হাফেজ নুরুল হক (কক্সবাজার-৪) বলেন: “উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে হাতপাখার বিকল্প নেই। গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পা”িছ।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের ক্রেডিট এবং প্রার্থীদের চারিত্রিক স্বচ্ছতা ইসলামী আন্দোলনকে কক্সবাজারের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত করতে পারে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ