প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিল কেটে জামায়াত নেতাকে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন জামায়াত নেতা ও হোমিও চিকিৎসক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ। সোমবার মধ্যরাতে বাসার গ্রিল কেটে দুই যুবক ভেতরে ঢুকে তাকে হাত-পা বেঁধে, শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর ৮ ভরি স্বর্ণ ও ৫ লাখ টাকা লুট করা হয়। নিহত আনোয়ার উল্লাহ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও রুকন ছিলেন।নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ বলছে, হাত-পা বাঁধার পর মুখও কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়। মুখ বাঁধার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। সোমবার মধ্যরাতেই তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হয়ে যেতে দেখা যায়। জানালার গ্রিল কেটেই তারা বাসায় ঢোকেন এবং দীর্ঘ সময় ভেতরে অবস্থান করেন।আনোয়ার উল্লাহ হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তারা জানান, গত ১২ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারস্থ বাসার গ্রিল কেটে একদল দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। সন্ত্রাসীরা তার বাসার স্বর্ণালংকার, টাকাসহ বহু মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে নিহত জামায়াত নেতা আনোয়ার উল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলার অবনতির উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুইটি রাজনৈতিক নেতার হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। দ্রুততম সময়ে হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করা, দায়ীদের আটক এবং শাস্তি করতে হবে। না হয় মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থা হারাবে।শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আশপাশের ফুটেজ ও নিহতের স্ত্রীর তথ্যমতে, দুজন এসেছিল। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ