প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে রংপুর
মোঃ রাশেদুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
উত্তরের জনপদ রংপুরে জেঁকে বসেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়লেও আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তা চরমে পৌঁছেছে। জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।আজ ভোর থেকেই পুরো জেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়া, যা শীতের প্রকোপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক এলাকায়, ফলে কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ।চরম দুর্ভোগে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ:তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষি শ্রমিকরা কনকনে ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে পারছেন না। শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। দিনমজুর এক শ্রমিক জানান, “ঠান্ডার চোটে হাত-পা অবশ হয়ে আসছে, মাঠের কাজে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হাসপাতাল:হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় রংপুরে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গত তিন দিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ ও ৩৮ জন শিশু কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সর্দার অফিসের মমতাজ উদ্দিন।এ বিষয়ে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহের এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা কম। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার শীতের তীব্রতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে চলতি সপ্তাহে তাপ মাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া দফতর থেকে। এতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে, এবার শীতে সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র ও শিশুদের গরম কাপড় দেওয়ার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে রংপুর ত্রান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলায় শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বরাদ্দ করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দফতরকে চাহিদাপত্র দিলেও প্রয়োজনের তুলনায় এখনও কোনও বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ মিলেছে অনেক কম। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অপরদিকে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবার শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ তেমনভাবে করছে না বলে জানা গেছে।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ