প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫
অযত্ন অবহেলায় পাকেরহাট শিশুপার্ক চুরি হয়েছে নষ্ট খেলনাগুলো,চাষ হচ্ছে সবজি
ডেস্ক রিপোর্ট ||
দিনাজপুর খানসামা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পাকেরহাট-এ শিশু পার্ক থাকলেও শিশুদের বিনোদনের কোনো সুব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পার্কে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া, হয়নি কোনো সংস্কার। লোহার খেলনাগুলো মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে পার্কের বিভিন্ন রাইড। নষ্ট লোহার রাইডগুলো চুরি হয়ে গেছে একে একে। যেন দেখার কেউ নেই। শিশুদের মেধা ও সামাজিক বিকাশ যেন বাঁধাগ্রস্থ না হয়, এ জন্য শিশু পার্কটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানান অভিভাবক ও নাগরিক নেতাদের।জানা গেছে, শিশুদের বিনোদনের কথা চিন্তা করে ২০০৩ সালে ৯ জুলাই, শিশু পার্কের নাম ফলক উন্মোচন করেন এর তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি। পার্কটি স্থাপনের পর কিছু সময় শিশুদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তবে পার্কের ভেতরের খেলনাগুলো মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে শিশুদের আনাগোনা কমে যায়।পাকেরহাট কেন্দ্রীক ও তার আশপাশ এলাকায় অনেক পরিবার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়নি।সরেজমিনে দেখা গেছে,পাকেরহাট শিশু পার্কটি অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।পার্কটির ভিতরে অনেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও লাগিয়েছেন পার্কটিতে একটি মই ছাড়া আর কিছুই নেই। পার্কের মধ্যে শিশুদের চিত্ত বিনোদন ও খেলার জন্য দোলনা, সিরি, মই, ছাতা, ঘোড়া ও মাঠের ভেতরের চার দিকে বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল।শুরুতে পাকেরহাট শিশু পার্কে শোভা পাচ্ছিলো খেলাধুলার বিভিন্ন রাইড ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল। এই শিশু পার্ককে ঘিরে আশেপাশের শিশু ও অভিভাবকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছিলো।শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে এসে পার্কটিতে খেলাধুলা করে সময় কাটাত। কিন্তু নির্মাণের দু- বছর যেতেই শিশু পার্কে নির্মিত লোহার খেলনাগুলো মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হয়নি কোনো সংস্কার কাজ। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আস্তে আস্তে শিশুদের খেলনাগুলো পুরোটাই ধংস হয়ে যায়। অকেজো খেলনাগুলো অনেকটা চুরি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্কুল ছাত্রী সুমী বলেন, ‘শিশুদের জন্য নির্মিত শিশু পার্কটিতে শিশুদের খেলনার কোনো উপকরন নেই। ফলে আমরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’জমিরউদ্দীন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ও কলেজের ছাত্রী মৌসুমী বলেন, ‘পার্ক স্থাপনার পর পার্কে অনেক সরঞ্জাম ছিল, এখন তা আর নেই। শিশুদের জন্য হলেও পার্কটি পুনরায় নির্মিত করা দরকার।’জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান সরকার বলেন , আমাকে একটু সময় দিতে হবে আস্তে সব করতে চেষ্টা করবো। সংস্কারের জন্য যা করার প্রয়োজন আমরা করবো।সংস্থারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে এবং সবজি বাগান উচ্ছেদ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, ‘শিশুদের জন্য শিশু পার্কটি সংষ্কার খুবই দরকার, যাতে আমাদের সবার বাচ্চারা শিশু পার্কটিতে খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পায়।
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ