প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চীনের জুহাই এয়ারশো'র ৩০ বছর, থাকছে নানা আয়োজন
উত্তরের ডেক্স ||
চীনের সামরিক সক্ষমতার ক্রমাগত বিকাশ ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় দেশটির বৃহত্তম আকাশ প্রদর্শনী 'জুহাই এয়ারশো'-তে প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে নৌবাহিনীর সরঞ্জাম প্রদর্শনের জন্য একটি পৃথক ও বিশেষায়িত এলাকা। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যখন তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে চলেছে, ঠিক তখনই এই এয়ারশোর নতুন এই সম্প্রসারণের ঘোষণা এল।চীন আন্তর্জাতিক বিমান ও মহাকাশ প্রদর্শনী জুহাই এয়ারশো নামেই বহুল পরিচিত। এটি চলতি বছর তার প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূরণ করতে যাচ্ছে। দ্বিবার্ষিক এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে চীন তাদের সাধারণ বিমান চলাচলের পাশাপাশি সামরিক আকাশযান বৈশ্বিক ক্রেতা ও দর্শকদের সামনে তুলে ধরে। এর আগে চীনের অনেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধুনিক সামরিক বিমান এই প্রদর্শনীর মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ করেছে; যেমন ২০১৬ সালের আসরে চীনের জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত আকাশে উড্ডয়ন করেছিল। গুয়াংডং প্রাদেশিক সরকার এবং পিএলএ বিমানবাহিনীর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই এয়ারশোটির মূল বাস্তবায়নে রয়েছে জুহাই পৌর সরকার। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ বছরের প্রদর্শনীটি আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলীয় শহর জুহাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্ববর্তী যেকোনো আসরের চেয়ে এক দিন বেশি স্থায়ী হবে।মঙ্গলবার বেইজিংয়ে এক অনুষ্ঠানে গুয়াংডং প্রদেশের উপ-গভর্নর ঝাং হু এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো এ বছরের এয়ারশোটি সামুদ্রিক অঙ্গনে বিস্তৃত হতে যাচ্ছে। গাওলান পোর্টে একটি নৌ সরঞ্জাম প্রদর্শনী এলাকা তৈরি করা হবে, যেখানে চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে কর্মরত নানা ধরনের ভারী সামরিক সরঞ্জাম বিস্তৃত পরিসরে প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। ঝাং হু আরও উল্লেখ করেন, এটি হতে যাচ্ছে আয়োজনের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রদর্শনী, যেখানে ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ প্রদর্শনীর জায়গা আরও ১২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জানান, এবার ৩ হাজারটিরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে এবং এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ নতুন, যা প্রথমবারের মতো মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হবে।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রদর্শনীর জন্য চীনা নৌবাহিনী গাওলান পোর্ট এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় সীমানা ব্যবহার করবে। সেখানে নৌবাহিনীর সক্রিয় যুদ্ধজাহাজগুলো দর্শনার্থীদের জন্য স্থির প্রদর্শনী হিসেবে রাখা হবে এবং উপকূলভাগের জমিতে উভচর আর্মার্ড যানবাহনসহ নানা ধরনের কৌশলগত সরঞ্জাম সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রম তদারকি করা পিএলএ সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এ বছরের আয়োজনে অন্যতম সহযোগী সংস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ঝাং হু জানান, নতুন করে যুক্ত ড্রোন প্রদর্শনীর জন্য নির্ধারিত বিশেষ অংশে একাধিক নতুন ধরনের ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও মহড়া সরাসরি দেখানো হবে।অন্যদিকে, পিএলএ বিমানবাহিনীর রাজনৈতিক বিভাগের উপ-পরিচালক মেজর জেনারেল গাও শিয়াং জানিয়েছেন যে, এবার বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করবে। এসবের মধ্যে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, লজিস্টিক সাপোর্ট, চালকবিহীন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সরঞ্জাম এবং নানা ধরনের গোলাবারুদের একটি সুসংহত সামরিক রূপ প্রদর্শন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রদর্শনীতে যেমন একদিকে থাকবে অতীতে সফলতার সাথে পরীক্ষিত ও কার্যকর যুদ্ধ সরঞ্জাম, অন্যদিকে ঠিক তেমনই থাকবে নতুন উন্নীত ব্যবস্থা এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক প্রকাশ। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চালকবিহীন ব্যবস্থার যৌথ সমন্বয়ে বিমানবাহিনী কী ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাও প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তবে কোন কোন সুনির্দিষ্ট মডেলের যুদ্ধবিমান বা সরঞ্জাম উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।মহাকাশ ও রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এবার বড় চমক থাকছে। চীনা মহাকাশ সংস্থা চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন-এর মুখপাত্র হাও চ্যাংফেং জানান, তারা এই এয়ারশোতে ভারী লঞ্চ ভেহিকল এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেটের সর্বকালের বৃহত্তম প্রদর্শনী আয়োজন করবে। সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অ্যারোস্পেস কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণেও এবারের আসর সমৃদ্ধ হবে। ফ্রান্স, রাশিয়া, সৌদি আরব, ব্রাজিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকবে পৃথক ও বিশেষায়িত এলাকা, যেখানে এয়ারবাস, বোয়িং এবং এমব্রায়ারের মতো বৈশ্বিক বিমান প্রস্তুতকারক দৈত্যরা তাদের উপস্থিতি বজায় রাখবে।দর্শকদের মূল আকর্ষণ অ্যারোবেটিক প্রদর্শনী ও আকাশ কসরতের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বড় দলগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের পিএলএ বিমানবাহিনীর আগস্ট ফার্স্ট অ্যারোবেটিক টিমের পাশাপাশি রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সের রাশিয়ান নাইটস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ফুরসান অ্যারোবেটিক টিম আকাশে রোমাঞ্চকর কসরত প্রদর্শন করবে। সবমিলিয়ে, ৩০ বছর পূর্তির এই আয়োজন চীনের সামরিক অগ্রগতি ও বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের অন্যতম বৃহৎ সম্মেলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সম্পাদকঃ নুর-আমিন
সহ-সম্পাদকঃ আরকে. রাসেদ খান
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ