প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম বিদ্যালয় পরিবার—বললেন- হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া।
মোঃ রাশেদুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ভালো ফলাফল নয়, সন্তানকে একজন সৎ, মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার থেকেই শুরু হয়"—এমন বার্তা দিয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় হুইপ ও দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, সন্তানকে কেবল উচ্চশিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান। পৃথিবীর প্রতিটি বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে সন্তানের জন্য উন্নত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার। এ লক্ষ্যে তারা ভালো বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, পুষ্টিকর খাবার, সুন্দর পোশাক এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে শুধু এসব নিশ্চিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সন্তানের নৈতিক ও চারিত্রিক বিকাশের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”তিনি বলেন, “সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোই অভিভাবকের একমাত্র দায়িত্ব নয়। তার মানসিক বিকাশ, আচরণ, বন্ধুবান্ধব, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা জরুরি। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য পর্যবেক্ষণ করা, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং অবসর সময় কীভাবে ব্যয় করছে—এসব বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।”হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, “সপ্তাহে অন্তত একবার শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্তানের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কে জানা উচিত। এছাড়া মাসে অন্তত একবার বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সন্তানের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন।”তিনি অভিভাবকদের প্রতিদিন কিছু সময় সন্তানের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “তাদের অনুভূতি, সমস্যা ও স্বপ্ন মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি স্নেহশীল হতে উৎসাহিত করতে হবে।”মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, “কোনো সন্তান জন্মগতভাবে ভালো বা খারাপ হয়ে জন্মায় না। পরিবারই তার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাবা-মাই তার প্রথম শিক্ষক। পরিবারে যে মূল্যবোধ, শিক্ষা ও পরিবেশ সে পায়, ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র সেভাবেই গড়ে ওঠে।”বার্তায় তিনি আরও বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, দেশ গড়বে এবং সমাজকে আলোকিত করবে। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিবার থেকেই শুরু হয়। সচেতন অভিভাবকরাই একটি সুন্দর পরিবার, সুস্থ সমাজ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”সবশেষে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই। সন্তানকে সময় দিই, ভালোবাসা দিই, সঠিক দিকনির্দেশনা দিই এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি।’
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ