প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
রাত হলেই ড্রেজার লর্ডদের শুরু হয় ডালারপাড়ে পাড়কাটা।
সুনামগঞ্জ (তাহিরপুর প্রতিনিধি) ||
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় (ডালারপাড়) এলাকায় বিল্লালের বসতবাড়ির পেছনে ইজারাবিহীন স্থান থেকে অবৈধভাবে রাতের আধারে প্রায় ২৫/৩০ টি পরিবেশ বিধ্বংসী সেলু মেশিন,লিস্টার মেশিন ও বোমা সহ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাড় কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার চার্জশীট থেকে বাদ পড়া আসামি, বিএনপি নেতা রইছ মিয়া,আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা মেম্বার,বিল্লাল মিয়া, ফরিদ মিয়া,সাদ্দাম হোসেন ও মিয়ার বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বালু খেকো সিন্ডিকেট চক্র বিল্লাল মিয়া,মোস্তফা মেম্বার,রইচ মিয়া,ফরিদ মিয়া,সাদ্দাম হোসেন গংরা বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন লাউড়েরগড় ডালারপাড় এলাকায় রাত হলেই শুরু হয় ড্রেজার লর্ডদের পাড়কাটার মহোৎসব। দিনের বেলায় প্রতিদিন শত শত মাহিন্দ্র ও ট্রাকে করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এসব যানবাহন লাউড়েরগড় বাজারের ভেতর দিয়ে চলাচল করায় সড়কের অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। নৌ পুলিশ,বাদাঘাট তদন্ত পুলিশ কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে বালু লুট ও পাড়কাটার মহোৎসব চলছে। যেন দেখার কেউ নেই। গত দু'দিন আগে ২৫/৩০ টি ড্রেজার মেশিন সমানতালে বালু উত্তোলনকালে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাড় কাটতে রাত জেগে পাহাড়া দেয় এমন অভিযোগও রয়েছে। পরিশেষে পরিবেশ এবং নদীর উভয় তীর রক্ষায় জেলা প্রশাসক সহ জেলা পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকির মধ্যে থাকে পুরো গ্রামের তীরবর্তী বাসিন্দারা। এদিকে দিনের বেলায় লাউড়েরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণে ব্রীজ সংলগ্ন ঢালারপাড় খালের ভেতরে রাখা হয় ড্রেজারগুলো। পরে প্রতিদিন রাতে ড্রেজারগুলো বের করে বিল্লালের বাড়ির পেছনে সারারাত পাড় কাটে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ, পথচারী এবং যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ইজারাবিহীন স্থান থেকে পাড়কেটে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধভাবে বালু পরিবহন বন্ধ এবং এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডালারপাড়-লাউড়েরগড় গ্রামগুলো নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তারা মাননীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।নৌ পুলিশের ইনচার্জ দিলীপ কুমার দাস বলের, রাত জেগে নদী পাহাড়া দিচ্ছি। প্রতিরাতে নদীতে ড্রেজার চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন আমাদের জনবল কম থাকার কারণে সবদিকে নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে আমাকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো ফারুক আহমদ বলেন, বালু লুট ও পাড়কাটার বিরুদ্ধে নদীতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।##
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
E-mail: dainikauttareraniuja@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ